সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এসব ক্লিনিক থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। কিন্তু এমন উদ্যোগের সুফল থেকে এখনো বঞ্চিত রয়েছেন মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের চরবেহেরপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা।
চরবেহেরপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২০ সালে। পরে ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও ক্লিনিকটিতে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। ভেতরের কক্ষগুলো ধুলাবালু ও মাকড়শার জালে আচ্ছন্ন। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে। শুরুতে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বর্তমানে সেটি বিচ্ছিন্ন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্লিনিকটি চালু হলে চরবেহেরপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেতেন। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। বর্তমানে চিকিৎসা নিতে তাদের দূরবর্তী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ—দু’দিক থেকেই কষ্টসাধ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উদ্বোধনের পর থেকে জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ কিংবা নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মালেক বলেন, সরকারি ভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমরা উপর মহলে এখানে নিয়োগের জন্য আবেদন দিয়েছি। এই কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর বিষয়ে আমাদের তেমন কিছু করার নেই।
চরবেহেরপাড়ার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্লিনিকটি চালু করবে। এতে তৃণমূলের মানুষ স্বল্প খরচে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং জরুরি সময়ে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত হবে।