মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলেও কাজের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের ষোলআনী কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বেরু মোল্লাকান্দি সড়কটি চরঝাপটা, বেরু মোল্লাকান্দি ও আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার কয়েক হাজার মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের প্রধান পথ। এই সড়কের ষোলআনী আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন খালের ওপর ২০১৫ সালে দুর্যোগ ও পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের চার বছরের মাথায় ২০১৯ সালে পানির তোড়ে সেটি দেবে গিয়ে ভেঙে পড়ে।
এরপর দীর্ঘদিন স্থানীয়রা চাঁদা তুলে বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করে কোনো ভাবে চলাচল চালিয়ে আসছিলেন। এতে প্রায়ই অটোরিকশা খালে পড়ে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে ছিলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। মেসার্স বিক্রমপুর এন্টারপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর নতুন সেতুর একপাশে পাইলিং কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কয়েকজন শ্রমিক গর্তে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ করছেন। টানা বৃষ্টিতে নির্মাণস্থলের পাশের সড়ক ভেঙে পড়েছে। পথচারীদের জন্য তৈরি সরু রাস্তা কাদামাটিতে চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় মানুষকে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। খালের একপাশে হেঁটে এসে অন্যপাশে অটোরিকশায় করে হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ও উপজেলা পরিষদে যেতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অসুস্থ ব্যক্তি, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, আমরা চরম কষ্টে আছি। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত কোথাও যাওয়া যায় না। বৃষ্টি হলে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শিশুদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দ্রুত কাজ শেষ না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিক্রমপুর এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বরে সাড়া পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম বলেন, ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে এবং সেতুর একপাশে পাইলিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্ষার বড় কোনো বাধা না থাকলে আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তির সৃষ্ট জটিলতার কারণে পুরোনো সেতু অপসারণের পর নতুন কাজ শুরু করতে প্রায় এক মাস বিলম্ব হয়েছে। বিভিন্ন সময় কাজে বাধার মুখেও পড়তে হয়েছে। এসব সমস্যা না থাকলে এতদিনে ভিত্তি নির্মাণের কাজ অনেকটাই এগিয়ে যেত।