নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গীবাড়ি
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে ৫৫ জন আবেদনকারীর তালিকা নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়ার পর এবার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মোল্লা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর দলের সঙ্গে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকাওয়ালাদের খুঁজে খুঁজে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর তদন্তে কয়েকটি স্থাপনার অবস্থা অনুপযুক্ত মনে হওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মিজানুর আহসান চৌধুরী। সব মিলিয়ে সার ডিলার নিয়োগের বাছাইপ্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি সার ডিলার নিয়োগে আবেদন করা ৫৫ জনের তালিকা চাইতে গিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃতীশ চন্দ্র পালের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের কথোপকথনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তালিকা চাওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তিনি বলেন, আমাদের কাছে কোনো কপি নাই, আপনারা নিউজ করেন সমস্যা নাই।
এরপর আবেদনকারীদের তালিকা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন মোল্লা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ১৭ বছরের কর্মীদের বাদ দিয়ে টাকাওয়ালাদের খোঁজে খোঁজে সারের ডিলার দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর এ মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হচ্ছে কি না, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও স্থাপনার উপযুক্ততা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে-এসব প্রশ্ন সামনে আসছে।
বিতর্কের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. মিজানুর আহসান চৌধুরীর বক্তব্যও নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। তিনি জানান, তদন্তে গিয়ে কয়েকটি স্থাপনার অবস্থা তাঁদের কাছে অনুপযুক্ত বলে মনে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তদন্তে গিয়ে কোথাও এমন দৃশ্যও দেখেছি যেখানে গরুর খামার ছিল, সেখানে পরিত্যক্ত হাউজ, নালা দেখা গেছে। আরেকটা আড়িয়ল মার্কেটের পিছনে পরিত্যক্ত স্থানে কাঠের ঘর তুলে রাখছে যেখানে জঙ্গল দেখা যায়।
তদন্ত কমিটির সদস্যের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, কোন আবেদনকারীর স্থাপনা পরিদর্শন করে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে? গুদাম বা স্থাপনার প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ের পর আবেদনকারীদের যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে? তদন্তের পর্যবেক্ষণগুলো চূড়ান্ত বাছাইয়ে কী প্রভাব ফেলেছে?
তবে সমবায় কর্মকর্তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো আবেদনকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বর্ণিত স্থাপনাগুলোর সঙ্গে কোন আবেদনকারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে, অর্থের প্রভাব খাটিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে-এমন অভিযোগের পক্ষেও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় সার ডিলার নিয়োগে আবেদন করা ৫৫ জনের তালিকা, নির্বাচিত হয়েছে মাত্র ১৩ জন, বাছাইয়ের মানদণ্ড এবং তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ প্রকাশের দাবি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারা আবেদন করেছেন, তাঁদের স্থাপনা কতটা উপযুক্ত এবং কোন মানদণ্ডে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হচ্ছে- এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।