আহমেদ স্বপ্নীল
বাবার সঙ্গে দাদার বাড়ি থেকে রাতে নানার বাড়ি যাচ্ছিল চার বছরের ছোট্ট তোয়াবা। পথে তাঁদের ওপর হামলা হলে বাবা–মেয়ে আলাদা হয়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় কোনো রকমে বাড়ি ফেরেন বাবা। তবে পাওয়া যাচ্ছিল না শিশু তোয়াবাকে। গতকাল বুধবার রাতের এ ঘটনার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির লাশ পাওয়া গেছে এলাকার কাশবনে। আর দুপুরে হাসপাতালে মারা গেছেন বাবা।
গতকাল রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ওই গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে কাশবন থেকে শিশু তোয়াবার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে শিশুটির বাবা গোলাপ হোসেনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও নিহত গোলাপের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোলাপ হোসেন বিয়ে করেছিলেন খালাতো বোনকে। তাঁর শ্বশুরবাড়ি ও নানার বাড়ি একই। নানার বাড়ির জমিজমা নিয়ে গোলাপের মামাদের সঙ্গে প্রতিবেশী সোহরাব হোসেনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে দুই পক্ষ আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও করেছে। জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগেও মারামারি হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, গতকাল বিকেলে মেয়ে তোয়াবাকে নিয়ে রামকৃষ্ণদীতে বাবার বাড়িতে যান গোলাপ হোসেন। এশার নামাজের পর মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে ইটভাটা এলাকায় সোহরাব হোসেনের লোকজন তাঁদের (বাবা–মেয়ে) ওপর হামলা করেন। এতে ছোট্ট মেয়েটি বাবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। ঘটনার পর আহত অবস্থায় গোলাপ বাড়িতে ফেরেন। স্বজনেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
শিশু তোয়াবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হাসান।