মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিষিদ্ধ জাল এবং বৈদ্যুতিক শক ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের পাশাপাশি প্রজননক্ষম মা মাছ ও পোনা ধ্বংস হওয়ায় দেশীয় মাছ ও জলজ জীব বৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে একশ্রেণির অসৎ জেলে ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বাঁশের বানা ও ঘের তৈরি করে মাছ ধরছেন। এসব ঘেরে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, চায়না দুয়ারি জাল ও ভৈরব জালের মতো ক্ষতিকর উপকরণ। এসব সূক্ষ্ম ফাঁসের জালে ছোট-বড় কোনো মাছই রেহাই পাচ্ছে না।
বিশেষ করে মাছের প্রজননকালে এবং পরবর্তী সময়ে খাল বিল থেকে পানি নামার সময় রেণু পোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছ নিধন করা হচ্ছে। ফলে টেংরা, পুঁটি, মলা, ঢেলা, কাঁচকি, চান্দা, খলশে, পাবদা, শিং, মাগুর, কই, বেলে ও বাইমের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রজাতিগুলো আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে।
নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, অবৈধ রিং জাল, ভৈরব জাল ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে ছোট-বড় সব মাছ নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে। পানি নামার মুখে এভাবে পোনা ও মা মাছ ধ্বংস করা হলে দেশীয় মাছ বংশবৃদ্ধির কোনো সুযোগ পাবে না।
স্থানীয়রা এসব ক্ষতিকর জালের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস সামাদ বলেন, “মুক্ত জলাশয়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এ ধরনের জালের ব্যবহার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।