মুন্সীগঞ্জের সময় রিপোর্ট
জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় জেলা প্রশাসকের হুশিয়ারি
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত ও বেশী দামে বিক্রি করলেই কঠোর ব্যবস্থা
মুন্সীগঞ্জ জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেছেন, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সার ও বীজের সুষ্ঠু সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অবস্থাতেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত কিংবা নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার ও বীজ বিক্রয় করা যাবে না। এ ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক এ সময় সার ও বীজ ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিয়মিত বাজার তদারকি ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। এতে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ বিল্লাল হোসেন কন্দাল ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নিজাম উদ্দিন আহমেদ, মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিজ্ ফারজানা শাহরিন, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. সামির হোসাইন সিয়াম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, সার ও বীজ ডিলার নেতৃবৃন্দ, কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কৃষক নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সভায় সংযুক্ত ছিলেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত সভায় আসন্ন রবি মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার ও মানসম্মত বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সার ও বীজের মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় নিশ্চিতকরণ এবং বাজার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল আলুর উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষক পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে মানসম্মত আলুবীজ সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখা, মানসম্মত কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।