বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সময়

শিরোনাম:

● মুন্সীগঞ্জ যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক ● বিক্রমপুরের পলিমাটিতে আখ চাষ হাজার বছরের ইতিহাস ● বল্লাল সেনের দিঘিতে চলছে দখলের উৎসব ● মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মেনহাজুল আলম বদলী, নতুন পুলিশ সুপার মো. বদরুদ্দোজা ● ধান গোলায় তুলতে ব্যস্ত গজারিয়ায় কৃষকেরা. ● সিরাজদীখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে টি-শার্ট বিতরণ ● গজারিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুরআন পাঠ আন্দোলনের শিক্ষা সেমিনার. ● এইচএসসি ফল সিরাজদীখানে এবারও সেরা বিক্রমপুর আদর্শ কলেজ ● দেশব্যাপী নৈরাজ্য ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে সিরাজদীখানে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ● মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলতে চাই সমন্বিত উদ্যোগ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বল্লাল সেনের দিঘিতে চলছে দখলের উৎসব

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু

প্রকাশ : বুধবার, ৪ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:১১ এ এম
বল্লাল সেনের দিঘিতে চলছে দখলের উৎসব

বল্লাল সেনের দিঘিতে চলছে দখলের উৎসব

▫️ঐতিহ্যের অংশ সংরক্ষন একান্ত জরুরি

 

গত ৮ বছর আগে দিঘির ২৬ শতাংশ জমি একই এলাকার মৃত মরন দালালের পরিবারের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের দালালপাড়া গ্রামের মো. সালাউদ্দিন। এরপর জমিতে মাটি ভরাট করে ভবন নির্মান করেছেন। কিশোর বয়স থেকে শুনে আসছেন, এটা বল্লাল সেন আমলের রামপালের দিঘি। কিন্তুু এসব সম্পত্তি কিভাবে ব্যক্তি নামে মালিকানা হয়েছে তা তিনি বলতে পারেনি। ক্রয়সূত্রে ৩৮ শতাংশ জমির মালিক আব্দুর রহমান। তার জমির এ সম্পত্তি বল্লাল সেনের দিঘির জানলেও
সিএস ও আরএস রেকর্ডে এই জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় ১১ বছর আগে তিনি ক্রয় করেছেন।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, সিএস ও আরএস রেকর্ডে রাজা বল্লাল সেনের আমলে তৈরী মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি রামপাল দিঘির ৪৫ একরের বেশী সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানা থাকায় এভাবেই ক্রয়ের পর বসতবাড়ি নির্মান করে দখল উৎসব চলছে।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে স্থানে স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে, তা আরএস রেকর্ডে রামপাল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর দাগের অন্র্Íভূক্ত। এই দাগের সম্পত্তি মরন দালালের নামে রেকর্ড করা আছে। তার নাম ছাড়াও আরএস রেকর্ডে দিঘির সম্পত্তিতে মালিকানায় নাম রয়েছে ইসমাইল গং ৩৩ শতাংশ,
পুনাই দালাল ও হাজী অখিল উদ্দিন দালাল গং ১ একর ৩ শতাংশ, কালাচাঁন দেওয়ান ও আব্দুল হাই দেওয়ান গং ১৬ শতাংশ, আব্দুর রহমান ও
মনিরুজ্জামান গং ৩৮ শতাংশসহ কমপক্ষে ৫ শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ঐতিহ্যবাহি রামপালের দিঘি, যা বল্লাল সেনের দিঘি হিসেবেও পরিচিত। কিন্তুু কি করে এই দিঘির সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হয়েছে তা তাদের জানা নেই। তারা জানান, বল্লাল সেনের আমল ছিল ১২০০ বা ১৪০০ বছর আগের। আর

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লাল সেনের রামপালের দিঘি নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্তে দেখা গেছে, বল্লাল সেনের দিঘির বেশীর ভাগ সম্পত্তি সিএস ও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাই বাড়িঘর নির্মান করা হলেও বাধঁা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও কিভাবে এ দিঘিটি সংরক্ষন করা যায়, সে প্রচেষ্টার উদ্যোগ নিবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি মনে করেন, প্রশাসনের উপর একক ভাবে দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন মহল বলছেন, পদ্মা সেতু নির্মানের জন্য যদি মানুষের ভিটেমাটি অধিগ্রহন করা যায়। তাহলে প্রায় ১৪০০ বছর আগের ঐতিহ্যবাহি বল্লাল সেনের রামপালের দিঘিটি কেন সরকার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় নিতে পারবে না। এ সম্পত্তিতো ব্যক্তি মালিকানায় যাওয়ার আগে স্থানীয় ব্যক্তিদের পৈত্রিক ভিটা বাড়ী ছিলো না।

রামপাল এলাকাবাসীসহ সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে স্থাপিত মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর দূর্গটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ তাদের তালিকাভূক্ত করলেও ঐতিহ্যবাহি বল্লাল সেনের রামপালের দিঘিটি তালিকাভূক্ত করেনি। সে সময় তালিকাভূক্ত করা হলে দিঘিটি তার সৌন্দর্য হারাতো না। বেদখল হতো না ঐতিহ্যের অংশ বল্লাল সেনের রামপালের দিঘিটি।

অথচ তিন বছর আগে দিঘির ২৬ শতাংশ জমি এলাকার মৃত মরন দালালের পরিবারের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন সদর উপজেলার

রামপাল ইউনিয়নের দালালপাড়া গ্রামের মো. সালাউদ্দিন জানান, কিশোর বয়স থেকে শুনে আসছেন, এটা বল্লাল সেন আমলের রামপালের দিঘি। কিন্তুু এসব সম্পত্তি কিভাবে ব্যক্তি নামে মালিকানা হয়েছে তা তিনি বলতে পারেনি। এছাড়া ক্রয়সূত্রে ৩৮ শতাংশ জমির মালিক আব্দুর রহমান। তার জমির এই সম্পত্তি বল্লাল সেনের দিঘির সম্পত্তি জানলেও সিএস ও আরএস রেকর্ডে ব্যক্তিমালিকানা হওয়ায় ১১ বছর আগে তিনি ক্রয় করেছেন।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ঐতিহ্যবাহি রামপালের দিঘি, যা বল্লাল সেনের দিঘি হিসেবেও পরিচিত। কিন্তুু কি করে এই দিঘির সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ড হয়েছে তা তাদের জানা নেই। তারা জানান, বল্লাল সেনের আমল ছিল ১২০০ বা ১৪০০ বছর আগের। আর সিএস রেকর্ড হয়েছে মাত্র ১০০ বছর আগে। সিএস রেকর্ডের সময় দিঘির সম্পত্তির বেশীর ভাগই ব্যক্তিমালিকানায় রেকর্ডভূক্ত করা হয়। মাত্র
১৪ শতাংশ সম্পত্তি সরকারি খাস খতিয়ান ভূক্ত।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে স্থানে স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে, তা আরএস রেকর্ডে রামপাল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজার ৩১৮ নম্বর দাগের অন্র্Íভূক্ত। এই দাগের সম্পত্তি মরন দালালের নামে রেকর্ড করা আছে। তার নাম ছাড়াও আরএস রেকর্ডে দিঘির সম্পত্তিতে মালিকানায় নাম রয়েছে ইসমাইল গং ৩৩ শতাংশ,
পুনাই দালাল ও হাজী অখিল উদ্দিন দালাল গং ১ একর ৩ শতাংশ, কালাচাঁন দেওয়ান ও আব্দুল হাই দেওয়ান গং ১৬ শতাংশ, আব্দুর রহমান ও
মনিরুজ্জামান গং ৩৮ শতাংশসহ কমপক্ষে ৫ শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে।

দিঘি সংলগ্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিঘিটি দৈর্ঘে ২২০০ ফুট আর প্রস্থে ছিল ৮৪০ ফুট আকৃতির। কিন্তুু চারিদিকে বসতবাড়ি নির্মান, মার্কেট নির্মান
ও জমি ভরাট কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় সংকুচিত হয়ে ক্রমেই ছোট হয়ে যাচ্ছে দিঘিটি। দিঘিটির পুরনো ঐতিহ্য এখন আর নেই। মানবসৃষ্ট
বিপর্যয়ের কারনে রামপাল দিঘির পানির উৎসের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের সেই জৌলসও নেই। যেসব ব্যক্তি জমি ভরাটের পর ঘরবাড়ি
নির্মান করছে, তারা এ সম্পত্তি নিজেদের এবং ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবী করছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা বিগত
কয়েক বছর ধরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সহযোগিতা করে যাওয়ায় দখল উৎসবে কোন বাধঁা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, বর্তমানে দিঘির দক্ষিণ পূর্ব পাড় দখল করে মাটি দিয়ে ভরাট হচ্ছে এবং তার ঠিক
উল্টো দিকেই নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির বহুতল ভবন। যারা ব্যক্তি মালিকানা দাবী করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে, তারা অসাধু উপায়ে
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কাগজ সংগ্রহ করেছে। বল্লাল সেনের রামপালের দিঘি এই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে। দুর দূরান্ত থেকে অনেকেই দিঘিটি দেখতে ভিড় জমায়। কিন্তু নানাভাবে দখল হয়ে যাওয়ায়
এর সৌন্দর্য এখন ধ্বংসের মুখে। নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে সেন বংশের ঐতিহ্যের স্মৃতি।

সরেজমিন দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল কলেজের দক্ষিন পাশে অবস্থিত ঐহিত্যবাহি বল্লাল সেনের রামপাল দিঘির বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট চলমান। ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক দ্বিতল ভবন নির্মান, দক্ষিন প্রান্তে ধলাগাঁও বাজার সংলগ্ন আলু সমিতির মার্কেটসহ একাধিক
মার্কেট নির্মান। এমনকি দিঘির চার পাশেই নির্মান করা হচ্ছে ঘরবাড়ি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করা বল্লাল সেনের রামপালের দিঘিটি।

খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, সিএস ও আরএস রেকর্ডে রাজা বল্লাল সেনের আমলে তৈরী মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহি রামপাল দিঘির ৪৫ একরের বেশী সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানা
থাকায় এভাবেই ক্রয়ের পর বসতবাড়ি নির্মান করে দখল উৎসব চলছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা গেছে, বল্লাল সেনের শাসনামলে এ অঞ্চলে পানির তীব্র কষ্ট দেখা দেয়। এতে রাজা বল্লাল সেন প্রজাদের পানীয় জলের কষ্ট দুর করতে ঘোষনা দেন, এক রাতের মধ্যে তার মা যতটা রাস্তা পায়ে হেটে যেতে পারবেন, ঠিক ততটুকু জায়গায় তিনি দিঘি খনন
করবেন। এরপর এক রাতে রাজমাতা হাটা শুরু করে বল্লাল সেনের ধারনার চেয়েও বেশী এলাকা পায়ে হেটে চলে যান। তাই ছলনার মাধ্যমে বল্লাল
সেন তার মায়ের পথরোধ করেন। পরে তার ঘোষনা অনুযায়ী বিশাল দিঘি খনন করলেও মায়ের সঙ্গে ছলনা করায় দিঘিতে পানি আসে না। এতে রাজা বল্লাল সেনের সম্মান বাচঁাতে মন্ত্রী রামপাল জানালেন, প্রান বিসর্জন দিলে পানি আসবে। কেননা, রাম সাগরের রাজা রাম নিজের প্রান বিসর্জন দিয়েছিলেন। এতে বল্লাল সেনও তাই করতে গেলেন। কিন্তুু রামপাল তার বন্ধু বল্লাল সেনকে খুব ভালোবাসতো, তাই বন্ধুকে
বাচঁাতে রামপাল নিজের জীবন বিসর্জন দিতে দিঘির অতলে নামেন। আর সঙ্গে সঙ্গে দিঘিতে পানি উঠতে থাকে। আর সেই পানির তোড়
অনেক বেশী থাকায় রামপাল প্রান বিসর্জন দেয়। তাই বল্লাল সেন দিঘির নামকরন করে রামপালের দিঘি।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)