রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সময়

শিরোনাম:

● ঢাকার বাতাসে স্বস্তি নেই, দূষণের শীর্ষে আগারগাঁও ● দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান ● মিরকাদিম ও মাওয়া মৎস্য আড়তের চিত্র সরবরাহ বাড়লেও চড়া দামে ইলিশের কেনাবেচা ● কারাবন্দী সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবের মানবিক উদ্যোগ নিহত জাহেদ নেপারীর পরিবার পেলেন এক লাখ টাকা ● টঙ্গীবাড়ীতে মোয়াজ্জেম শিকদারের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেলেন ২০০ জন ● গজারিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে তিন পদে জয়ী নজরুল, আফরান ও আমজাদ. ● টঙ্গীবাড়ীতে ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, খুশি এলাকাবাসী ● টঙ্গীবাড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিরাজদীখানে আলোচনা সভা ● সিরাজদীখানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির বদলে ছোট ভাইকে ৯ ঘণ্টা আটকের অভিযোগ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

রাতের আঁধারে ভরাট হচ্ছে শতবর্ষী খাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:০০ এ এম
রাতের আঁধারে ভরাট হচ্ছে শতবর্ষী খাল

 

▫️হুমকিতে হাজার হাজার একর কৃষিজমি
▫️ জলাবদ্ধতার শঙ্কায় কৃষক-স্থানীয়রা

 

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে রাতের আঁধারে শতবর্ষী একটি খাল ভরাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত খালটির বড় একটি অংশ ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার একর কৃষিজমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের আমঘাটা গ্রামের শিলই-মোল্লাকান্দি সড়কের পাশে অবস্থিত খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় ৬০ ফুট প্রশস্ত এই খাল দিয়ে আশপাশের গ্রাম ও কৃষিজমির অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কৃষিজমিকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষায় খালটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের পূর্ব পাশের জমির মালিক মহসিন নামের এক ব্যবসায়ী নিজের জমিতে প্লট তৈরি ও বিক্রির সুবিধার্থে খালটির বড় একটি অংশ ভরাট করছেন।

প্রতিদিন রাতের আঁধারে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলে খালের জায়গা ভরাট করে পার্শ্ববর্তী জমির সঙ্গে একাকার করা হচ্ছে। এভাবে খাল ভরাট অব্যাহত থাকলে একপর্যায়ে এর অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটি শুধু পানি চলাচলের পথ নয়, এটি এলাকার কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পানি জমে থাকবে।

এতে রোপা আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও জনবসতিও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দিনের পরিবর্তে রাতের আঁধারকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে খালটি ভরাট করা হচ্ছে।

বিষয়টি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

তাঁদের অভিযোগ, এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট জলপ্রবাহের জায়গা ভরাট করা হলেও যথাযথ নজরদারি না থাকায় কাজ বন্ধ হচ্ছে না।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ব্যক্তিগত জমিতে প্লট তৈরি ও বিক্রির সুবিধার্থে একটি এলাকার শতবর্ষী খাল ভরাটের সুযোগ কীভাবে তৈরি হচ্ছে? খালটি ভরাট হয়ে গেলে হাজার হাজার একর কৃষিজমির জলাবদ্ধতার দায়ভার কে নেবে?

এদিকে, খালটির অস্তিত্ব রক্ষা এবং কৃষিজমিকে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁরা অবিলম্বে খাল ভরাট বন্ধ, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, খালের সীমানা নির্ধারণ এবং ইতোমধ্যে ভরাট করা অংশ উদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে একদিকে যেমন হারিয়ে যেতে পারে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনের এই গুরুত্বপূর্ণ খাল, অন্যদিকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এলাকার কৃষি ও পরিবেশ। জনস্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এবিষ‌য়ে বালুভরাট প্রজেক্ট ম‌্যা‌নেজার মোঃ রু‌বেল জানান, আমরা এসি‌লেন্ড অ‌ফিস থে‌কে অনুমোদন নি‌য়ে‌ছি, প্রতি‌বেদক অনুম‌তির কাগজ দেখতে চাইলে রোববার দেখাবেন বলে ব‌লেন তিনি।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)