কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু
পদ্মা নদীতে জেলেরা সারা রাত মাছ ধরে। ভোর হলেই সেই মাছ নিয়ে আসে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া মৎস্য আড়তে। কার্তিকের ভোরে এ মৎস্য আড়তে প্রতিদিন ভোরে ইলিশের পসরা। চারদিকে পদ্মার বড় বড় ইলিশের রূ রূপালি ঝিলিক। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মাওয়া মৎস্য আড়তে দুই ঘন্টায় কোটি টাকা লেনদেন হয় ইলিশ বেচাকেনায়। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। তাঁরা জানিয়েছেন, পদ্মা নদীতে এখন ডিমভর্তি মা ইলিশ ও জাটকা ধরা পড়ছে। আর পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ মাছ ধরা পড়ায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া মৎস্য আড়তসহ বিভিন্ন মৎস্য আড়তে আকারের ইলিশ কেনাবেচার ধুম পড়েছে।
আর ইলিশের স্বাদ নিতে আড়তে নানা অঞ্চলের পাইকার, ক্রেতা ও শিমুলিয়ার হোটেল মালিকদের পদচারণায় উপচে পড়া ভিড়। দরদামে চলছে বেচাকেনা। তবে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও মাওয়া মৎস্য আড়তে কমছে না দাম। এতে বাজারে গিয়ে হতাশ ক্রেতারা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওয়া মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ীরা। আড়তদাররা বলেন, ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দামও কিছুটা বাড়তি।
মৎস্য আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাড়তি দামের পেছনে সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় হুমায়ুন আহম্মেদ বলেন, মাওয়া মৎস্য আড়তে ছোট, বড় ও মাঝারি আকৃতির ইলিশ বেচাকেনায় ধুম পড়েছে। প্রতিদিন সকালে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয় মাওয়া ও মিরকাদিম মৎস্য আড়ত। সেখানে পাইকারি ও খুচরা ভাবে প্রচুর ইলিশ মাছ বেচাকেনা হচ্ছ। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে জেলেরা। প্রতিদিন তাঁদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ। সরবরাহ বেশি থাকায় বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে।
জেলা মৎস্য কার্যালয় জানায়, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, শ্রীনগরের ভাগ্যকুল ও সদর উপজেলার কিছু অংশ মিলিয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে পদ্মা নদী। সদর ও গজারিয়া উপজেলার ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদী। এই দুই নদীর বিস্তীর্ণ গভীর থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশী জেলেরা ইলিশ আহরণ করে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাওয়া মৎস্য আড়তে রয়েছে ৩২ জন আড়তদার। তাদের আড়তগুলোতে লৌহজং, নড়াইল, শরীয়তপুর, মাদারীপুরের শিবচর, পাবনা, চাঁদপুর ও সিরাজগঞ্জের অন্তত ১০ হাজার জেলে মাছ বিক্রি করতে আসেন। সরবরাহ ভালো থাকায় মাওয়া মৎস্য আড়তে ক্রেতাদের উপস্থিতিও।
অসাইফুল ইসলাম খোকন নামের এক ক্রেতারা বলেন, পর্যাপ্ত ইলিশের সরবরাহ থাকা স্বত্বেও দাম নাগালের বাইরে। শুনেছি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। তাই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর মধ্য বাসাবো এলাকার বাসিন্দা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘টাটকা ইলিশ কেনার জন্য শনিবার ভোরে মাওয়া আড়তে এসে মাছ কিনেছি। ইলিশের সরবরাহ বেশী হওয়ায় আড়তে ভীড়ও বেড়েছে।
খুচরা মাছ বিক্রেতা হাবিল মিয়া জানালেন, মাওয়া আড়তে এখন সব পদ্মার ইলিশ। রাতভট জেলেরা মাছ ধরে ভোরে আড়তে বিক্রি করতে আসে। প্রচুর ইলিশ আসছে আড়তে।
পদ্মার জেলে আক্তার হোসেন বলেন, নদীর গভীরে গিয়ে ইলিশ শিকার করছি। নদীতে এখন ছোট বড় সব আকারের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।
সিন্ডিকেটের কারনে ইলিশের দাম বেশী এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া মৎস্য আড়তের সভাপতি জীবন দাস বলেন, আড়তে প্রচুর মাছ আসছে। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি। তবে আড়তে ব্যবসায়ীদের কোনো সিন্ডিকেট নেই ।
মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় পদ্মায় ইলিশ বেড়েছে।
সাগর থেকে কোনো বাধা ছাড়াই পদ্মা নদীতে চলে আসতে আপারছে। এ কারনে পদ্মা নদীর মুন্সীগঞ্জ অংশে আগের চেয়ে ইলিশ মাছ বেশী ধরা পড়েছে।