রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের সময়

শিরোনাম:

● ঢাকার বাতাসে স্বস্তি নেই, দূষণের শীর্ষে আগারগাঁও ● দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান ● মিরকাদিম ও মাওয়া মৎস্য আড়তের চিত্র সরবরাহ বাড়লেও চড়া দামে ইলিশের কেনাবেচা ● কারাবন্দী সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবের মানবিক উদ্যোগ নিহত জাহেদ নেপারীর পরিবার পেলেন এক লাখ টাকা ● টঙ্গীবাড়ীতে মোয়াজ্জেম শিকদারের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেলেন ২০০ জন ● গজারিয়া প্রেস ক্লাবের নির্বাচনে তিন পদে জয়ী নজরুল, আফরান ও আমজাদ. ● টঙ্গীবাড়ীতে ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, খুশি এলাকাবাসী ● টঙ্গীবাড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ● জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিরাজদীখানে আলোচনা সভা ● সিরাজদীখানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির বদলে ছোট ভাইকে ৯ ঘণ্টা আটকের অভিযোগ
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মুন্সীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সঙ্কট, মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসই ভরসা

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু

প্রকাশ : শনিবার, ৭ নভেম্বর,২০২৬, ০৮:০১ এ এম
মুন্সীগঞ্জে তীব্র গ্যাস সঙ্কট, মাটির চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাসই ভরসা

 


▫️ সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি

▫️বাসাবাড়ীতে রান্না করা দুস্কর, বিপাকে গৃহিণীরা

সকাল দুপুর কিংবা রাত কোন বেলাতেই গ্যাস মিলছে না কপালে। মাঝে মধ্যে গ্যাস এলেও তাতে চুলোতে টিমটিম করে জ্বলে আলো। এতে করে রান্না করা যায় না। খাবার রান্না করা এখন তাদের কাছে দুস্কর হয়ে উঠেছে। বাড়িতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ থাকা সত্বেও মুন্সীগঞ্জ শহরের মাঠপাড়া এলাকার গৃহিনী নাহার চৌধুরী ঘরের বাইরে মাটির চুলোতে রান্না করার সময় উপরোক্ত কথা গুলো বললেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার মতো গ্যাসের অভাবে ধুকছে মুন্সীগঞ্জ শহর ও শহরাঞ্চলের ১৩ হাজার ৭৭৯টি গ্রাহক। এসব গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে চাহিদা মতো গ্যাস পাচ্ছে না।

শহরের উত্তর কোটগাঁও এলাকার গৃহিণী জান্নাতুল ফেরদৌসী জানালেন, চুলোয় গ্যাসের একেবারেই চাপ নেই। টিম-টিম করে জ্বলে চুলা। তাতে ভাত-তরকারি রান্না করা তো দুরের কথা সামান্য পানি গরম করতেই পেরিয়ে যাচ্ছে ঘন্টা খানেক সময়। অগত্যা মাটির চুলায় লাড়কির জ্বালানিতে সারছেন রান্না-বান্না। আবার তিতাস গ্যাসের অভাব পুরন করতে হচ্ছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারে। ওই গৃহিণী দুঃখ করে বলেন, এমনিতেই গ্যাস মিলছে না, তার মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্য ২২ 'শ টাকা হলেও আমাদের কিনতে হয়েছে ৩৭'শ টাকায়। অতিরিক্ত ১৫০০ টাকা বেশী দিয়ে কিনতে হয়েছে এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডার। এ অবস্থা দেখার- কেউ নেই! এমন আক্ষেপ গ্যাস ব্যবহারকারীদের।

অন্যদিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের মানিকপুর এলাকায় সড়কে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের লিকেজ হচ্ছে। এতে গ্যাসের অপচয় এবং দুর্ঘটনার শঙ্কা ছাড়াও বাড়ছে গ্যাস সংকট। ব্যাহত হচ্ছে সড়ক সংস্কার কাজও।

অথচ গ্যাস সরবরাহে যথাযথ না থাকায় ব্যবহার ছাড়াই বিল গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। তাই ক্ষোভ বাড়ছে। আর এ কারণেই তিতাসের বকেয়া পড়েছে ৩০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জে দিনের পর দিন গ্যাস সংকটের কারনে বর্তমানে ঘরে ঘরে এমন ভয়াবহ চিত্র দেখা মিলেছে। সদর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও মিরকাদিম পৌরসভা জুড়ে গ্যাস সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম সরবরাহের কারনে এ সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের অভাবে ব্যবস্থা করতে হচ্ছে বিকল্প জ্বালানির। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প কারখানার উৎপাদন।

মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া, মানিকপুর, মধ্য কোটগাঁও, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, দেওভোগ, দক্ষিণ কোটগাঁও, খালইষ্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহল্লাগুলোর বেশীর ভাগ বাসাবাড়িতে গ্যাস নেই। হাতে গোনা পরিবার গ্যাসের চুলোয় টিম টিম আলোতে রান্না সারছেন।

অনেক পরিবার মাটির চুলোতে লাড়কির জ্বালানি দিয়ে আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত মূল্যে ক্রয় করে এলপিজির সিলিন্ডারে রান্না করছেন।

শহরের দেওভোগ এলাকার গৃহিনী লিপি বেগম বলেন, ফজরের সময় উঠে গ্যাসের চুলোয় গরম পানি বসিয়ে নামাজে যাই। এতে দেখি পানি ঠিকমত গরম হয় নাই। পরিবারে তিনজন ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে। ওদের ঠিকমত নাস্তা বানিয়ে দিতে পারি না। আর বিকেলেও ঠিকমতো গ্যাস থাকে না। রাতে বাচ্চাদের খাওয়াতে খাওয়াতে ১২ টা বেজে যায়।

মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি সুজন হায়দার জনি বলেন, মুন্সীগঞ্জে গ্যাসের সরবরাহ দিনদিন কমছে। গ্যাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা। গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেহেতু তিতাস কর্তৃপক্ষ বাসাবাড়িতে ঠিকমত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, তাই আবাসিক লাইনগুলোর বিল নেওয়া বন্ধ রাখার দাবী তার।

জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় বৈধ আবাসিক গ্রাহক ১৩ হাজার ৭শ ১৭ টি এবং শিল্প-বাণিজ্যিক ও ক্যাপটিভ গ্রাহকের সংখ্যা ৫২ টি। সবমিলিয়ে ১৩ হাজার ৭৭৯টি। এসব গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন ৭১ লাখ ১১ হাজার ৬শ ৮৭ ঘনমিটার। অথচ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ঘনমিটার। যা চাহিদার অর্ধেকের কম। এর মধ্য থেকে আবার একটি অংশ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে গ্যাস লিকেজে। এতো ক্ষতি হচ্ছে সড়কেরও। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো আছেই।

মুন্সীগঞ্জ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জেলায় ৭১ লাখ ঘন মিটার গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। অথচ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৩৫ লাখ ৪৩ হাজার ঘন মিটার গ্যাস। ঘাটতি থাকছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার ঘন মিটার গ্যাস।
আর এ কারনেই সংকট দেখা দিয়েছে।

সম্পর্কিত

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)