সিরাজদীখান প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ভুয়া দলিল তৈরি করে প্রায় ২৫টি পরিবারের জমি দখল করে রাখা এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওসমান গনি উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এবং তাঁর বিচার দাবি করে ১০১ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত আবেদন জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওসমান গনি বিভিন্ন এলাকার মানুষের সম্পত্তির ভুয়া দলিল তৈরি করে মালিকানা দাবি করছেন। প্রকৃত মালিকেরা নিজেদের জমিতে যেতে চাইলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি তাঁর দায়ের করা একটি মামলায় মৃত ব্যক্তিকেও সাক্ষী করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার একাধিক পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের একটি জায়গাও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নামজারি করানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ ছাড়া তাঁর দখলে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তি নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কয়েকটি মামলায় আদালতের রায় আসার পরও সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জমির প্রকৃত মালিকদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুল হাই, মো. ওবাইদুল ইসলাম, রেনু বেগম, মো. বাচ্চু খান, সুফিয়া বেগম, বিউটি বেগম, মো. মাহাবুব চৌধুরী ও আবু কালাম খান প্রমুখ। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে ওসমান গনি সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল করে রেখেছেন।
ভুক্তভোগী রেনু বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই নানাবাড়িতে বড় হয়েছি। আমার নানা ওসমান গনির কাছে কোনো সম্পত্তি বিক্রি করেছেন—এমন কথা কখনো শুনিনি। নানা মারা যাওয়ার পর তিনি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করে দখলের চেষ্টা চালান। এতে বাধা দিলে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের বাড়ির পেছনের জমির অর্ধেক তাঁদের এবং বাকি অর্ধেক ওসমান গনির মালিকানাধীন বলে দেখে আসছেন। কিন্তু তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ওসমান গনি পুরো জমির মালিকানা দাবি করেন। গত বছর আমিনের মাধ্যমে জমি মেপে পুরো জায়গার সীমানা নির্ধারণ করে তিনি তা জবরদখল করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, ওসমান গনির দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর বাবা উসিমুদ্দীন মৃধাকে সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ তাঁর বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। একজন মৃত ব্যক্তিকে কীভাবে মামলার সাক্ষী করা হলো, তা বোধগম্য নয়।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে কোলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি বলেন, আমি কারও জমি দখল করিনি। এলাকায় আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য একটি কুচক্রী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিরাজদীখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় আদালতেও একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। কিছুদিন আগে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।