মো. মাসুম হাসান আফিফ, টঙ্গীবাড়ি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কার করা হলেও বছর না যেতেই ভাঙতে শুরু করেছে খালের পাড়। খননের পর পাড়ে স্তূপ করে রাখা মাটি বৃষ্টির পানিতে ধসে খালে পড়ছে। একই সঙ্গে ভাঙনের শিকার হচ্ছে খালের পাশের কৃষকদের ফসলি জমিও। এতে খাল সংস্কারের স্থায়িত্ব ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোকামখোলা থেকে সাতুল্লা ব্রিজ পর্যন্ত খাল সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও কাজ শুরু করা হয়েছে রঙমেহর এলাকা থেকে। এ ছাড়া খননের পর খালের পাড়ে রাখা মাটি সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং একটি চক্র ওই মাটির কিছু অংশ অবৈধভাবে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড়ের মাটি ধসে খালের ভেতরে পড়ছে। কোথাও কোথাও কৃষিজমির অংশবিশেষ ভেঙে খালে বিলীন হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষকের জমির ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে খনন করা খাল আবারও ভরাট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল খননের উদ্দেশ্য ছিল পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, কৃষিকাজে সেচসুবিধা বাড়ানো এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো। কিন্তু খননের পর পাড়ের মাটি যথাযথভাবে অপসারণ ও সংরক্ষণ না করায় সেই মাটিই আবার খালে গিয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
তাঁদের প্রশ্ন, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা খালের পাড়ই যদি এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়ে, তাহলে এ প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পেলেন? সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও যদি খালের আগের অবস্থা ফিরে আসে, তাহলে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নকশা, কার্যাদেশ, খননের পরিমাপ, মাটি অপসারণের শর্ত এবং কাজের মান যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খালের পাড় ভেঙে কৃষিজমির ক্ষতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা দরকার।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম বলেন, আমি এই কাজের সময় ছিলাম না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ভাঙ্গনরোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসাথে খাল পাড়ের মাটি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার আশ্বাস প্রদান করেন।