মুন্সীগঞ্জের সময় রিপোর্ট
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের ভিটিহোগলা গ্রামের একটি মাজারে
অবস্থান করছিল আওয়ামী লীগ কর্মী জাহেদ বেপারী (৫০)। এ সময় ফরিদ বেপারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাজারে থাকা জায়েদ বেপারীর ওপর হামলে পড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। বুধবার রাত ১০টার দিকে ভিটিহোগলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাহেদ বেপারী আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ও সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লবের সমর্থক।
এদিকে গতকাক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী জাহেদ বেপারীর মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে ঢামেক পুলিশ। এরপর বিকেলে জাহেদ বেপারীর মরদেহ নিজ গ্রাম ভিটিহোগলায় নিয়ে যায় স্বজনরা। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
অন্য দিকে নিহত আওয়ামী লীগ কর্মী জাহেদ বেপারীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক ফরিদ বেপারী ও পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যায়। এর ফলে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘাতক ফরিদকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও ভিটিহোগলা গ্রামবাসী জানিয়েছে, পূর্ব বিরোধ ও পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে অনেকদিন ধরেই জাহেদ ও ফরিদ বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ওই বিরোধের জের ধরে বুধবার রাত ১০টার দিকে ফরিদ বেপারী প্রতিপক্ষ জাহেদ বেপারীর ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এ সময় স্থানীয় গ্রামবাসী উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে জায়েদ বেপারী মারা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিপক্ষ ফরিদ বেপারী মাদক কেনাবেচায় জড়িত। এ নিয়ে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ফরিদ ও জাহেদ বেপারী বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এতে জাহেদ বেপারী অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি ফয়সাল বিপ্লব গ্রুপে আর ফরিদ বেপারী অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মৃণাল কান্তি দাস গ্রুপে। এর মধ্যে চব্বিশের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ভোল পাল্টে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঐক্য করে ফরিদ বেপারী।
গ্রামবাসী জানায়, রাজনৈতিক বিরোধ ছাড়া স্ত্রী সঙ্গে জাহেদের পরকিয়া সম্পর্ক থাকার সন্দেহে
এবং মাজার কেন্দ্রিক বিষয়ে সৃষ্ট বিরোধেই ক্ষুব্ধ ফরিদ বেপারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জাহেদকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারনা করছে পুলিশ।
নিহতরে স্ত্রী বেবী বগেম জানান, প্রতিপক্ষ ফরিদ ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর ফরিদ বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঐক্য করে জাহেদ বেপারীকে নানাভাবে হয়রানি করে আসছিল।
বাবার নির্মম হত্যার বিচার চেয়ে নিহতরে বড় মেয়ে ফারিয়া আক্তার বলনে, ‘তিন বোনের সামনে থাতক ফরিদ তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করেছে। বাবার নির্মম মৃত্যুতে আমরা তিন বোন এতিম হয়ে গেছি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক পূর্ব বিরোধ ও পরকিয়া সন্দেহের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে হত্যার প্রকৃত কারন উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। একাধিক বিষয় সামনে রেখে পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের মূল হোতা ফরিদ বেপারী। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। ডাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে আশাআাদ ব্যক্ত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আজ সন্ধ্যার আগে মরদেহ দাফন করেছে পরিবার। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিল করার পর তা নামলায় নথিভুক্ত করা হবে।