নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গীবাড়ি
দীপাড়া ও রায়পুরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪টি ঘরের মধ্যে ১৮টি তালাবদ্ধ
▫️ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
▫️ তালাবদ্ধ থাকা ঘরগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীনদের দেওয়ার দাবী
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের দীপাড়া ও দক্ষিণ রায়পুরা এলাকায় ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪টি ঘরের মধ্যে ১৮টি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এসব ঘরগুলো বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশ ব্যক্তিই সেখানে বসবাস করেন না। ফলে ৩৪টির মধ্যে ১৮টি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায়ই থাকে বলে রায়পুরা গ্রামবাসী অভিযোগে জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কিছু সচ্ছল ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো
সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। আর বরাদ্দ পেয়েছে নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা একাধিক ব্যক্তি। এই অবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ প্রক্রিয়া, বর্তমান দখল পরিস্থিতি এবং ১৮টি ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় কেন খালি পড়ে আছে- তার সুষ্ঠু তদন্ত করা
এখন সময়ের দাবী হয়ে ওঠেছে।
গ্রামবাসীর মতে, নিয়মবহির্ভূতভাবে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করা এবং স্বজনপ্রীতির প্রমান পাওয়া যায়, তাহলে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যেসন কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত- তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।
একই সাথে তালাবদ্ধ ও খালি পড়ে থাকা ঘরগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
এদিকে বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলো তালাবদ্ধ থাকার খবর পেয়ে মঙ্গলবার দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময়ের এ প্রতিবেদক বেতকা ইউনিয়নের দীপাড়া ও ড়া্যপুরা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, দীপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬টি ঘরের মধ্যে ৩টিতে পরিবার বসবাস করছে। অপর ৩টি ঘর তালাবদ্ধ। অপরদিকে রায়পুরা এলাকার আশ্রায়ন প্রকল্পের ২৮টি ঘরের মধ্যে ১৩টি পরিবার বসবাস করছে। অপর ১৫ টি ঘর রয়েছে
তালাবদ্ধ অবস্থায়। আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে
কয়েকটি ঘরে কাঠ-লাকড়ি রাখার দৃশ্য চোখে পড়ে আর অপর ঘরগুলো একেবারেই খালি এবং তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
জানতে চাইলে প্রকল্পের বাসিন্দারা জানালেন, এসব ঘর বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কেউই সেখানে বসবাস করে না। প্রকৃত ভূমিহীন ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করে নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিদের আশ্রায়ন ঘর বরাদ্দ দেওয়া সেগুলো এখন খালি পড়ে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যাঁদের নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছেন। অথচ এলাকায় প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় অনেক পরিবার এখনো বসবাসের জায়গা পাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়নি। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কিছু সচ্ছল ব্যক্তিকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সরকারি সহায়তা পাওয়ার কথা যাঁদের, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন।
স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের বক্তব্য হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা। তাই প্রকল্পের ঘরগুলো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে বরাদ্দের তালিকা যাচাই ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে জানতে বেতকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’