মো. মাসুম হাসান আফিফ, টঙ্গীবাড়ি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে মাছ চাষের পুকুরে প্রায় সাড়ে তিন শ মরা মুরগি ফেলে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে বলে দাবি করেছেন পুকুরের মালিক মো. সিদ্দিকুর রহমান। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে টঙ্গীবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের খলাগাঁও এলাকায় ফুলতলা ব্রিজের নিচে বাড়ির পশ্চিম পাশে প্রায় এক একর আয়তনের একটি পুকুরে গত তিন বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন সিদ্দিকুর রহমান। গত ২৭ অক্টোবর রাতে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁর পুকুরে মরা মুরগি ফেলে মাছের ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাসাইল এলাকার মো. সেকান্দর শেখ নামের এক ব্যক্তি একটি মুরগির খামার থেকে আনুমানিক সাড়ে তিন শ মরা মুরগি নিয়ে এসে ওই পুকুরে ফেলে দেন। মরা মুরগি পুকুরে ফেলার কারণে মাছ মারা যেতে শুরু করে। পরদিন ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে পুকুরে গিয়ে সব মাছ মরে পানির ওপর ভাসতে দেখেন সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।
সিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগ, প্রতিবেশী টুটুল হালদার (৫০) ও আফছার (৫৫) নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পূর্ববিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরেই তাঁর মাছের খামারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পুকুরে মরা মুরগি ফেলা হয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার বিষয়ে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে মরা মুরগি পুকুরে ফেলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে থাকেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং খুন ও জখমের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সিদ্দিকুর রহমান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত টুটুল হাওলাদার বলেন, আমাকে আফসার উদ্দিন ওই পুকুরে মরা মুরগি ফেলতে বলেন। তার নির্দেশে আমি মরা মুরগি পুকুরে ফেলেছি।
আফসার উদ্দিন বলেন, আমি পুকুরের মালিক সিদ্দিকুর রহমানের ছোট ভাই তানজিল শেখের সাথে কথা বলি। তিনি বলেন পুকুরে মরা মুরগি ফেলতে।
এবিষয়ে তানজিল শেখ জানান, আমাকে ফোন দিয়ে ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার চেয়েছেন কিন্তু মুরগি ফেলার বিষয়ে আমাকে কিছু বলা হয়নি, আমিও কিছু বলিনি।
টঙ্গীবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।