নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জ মানিকপুর জেনারেল হাসপাতাল এলাকায় বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে বিভাগ এবং অন্য একটি ক্লিনিকে দাঁতের রুট ক্যানেল কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিতভাবে এই তদারকি কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জেনারেল হাসপাতালের আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে শহরের ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (পার্ট-২)’-এ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পূর্বের সতর্কবার্তা ও জরিমানা সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রমে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। সেখানে অনুমোদিত কোনো ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট ছাড়াই অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তি দিয়ে রোগীদের এক্স-রে করানো হচ্ছিল। এছাড়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগীদের ফুসলিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে ওই সেন্টারে এনে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির এক্স-রে বিভাগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিভিল সার্জন জানান, যতদিন পর্যন্ত তারা দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্ট নিয়োগ না দেবে, ততদিন সেখানে এক্স-রে কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।
একই অভিযানে আশপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ সন্তোষজনক পাওয়া গেলেও অন্য একটি ক্লিনিকে গুরুতর অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়। সেখানে কোনো স্বীকৃত বিডিএস (BDS) ডিগ্রিধারী ডাক্তার ছাড়াই একজন ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট সরাসরি রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা ও রুট ক্যানেল করছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে রুট ক্যানেল কার্যক্রম বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম আরও জানান, অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হবে। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ঘাটতি ও অনিয়ম সংশোধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।