নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের নাহাপাড়া এলাকায় আদালতের রায় এবং প্রশাসনের অনুমোদনে আরএস রেকর্ড সংশোধন ও অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির পরও জমি বেদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জমিতে যেতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী নাহিদ হাসান জানান, তাঁদের পক্ষে কাজী আব্দুল মোতালেব, কাজী ফয়েজ হোসেন, কাজী মিজানুর রহমান ও ওমর ফারুক কাজী বাদী হয়ে দেওয়ানি মোকদ্দমা নং ৮২/১৭ দায়ের করেন। ওই মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাঁদের পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন।
পরবর্তীতে আদালতের রায়ের আলোকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে আরএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য বিবিধ মামলা নং ২২-২৪/২৫ দায়ের করা হলে এসিল্যান্ড তা মঞ্জুর করে রেকর্ড সংশোধনের আদেশ দেন।
এরপর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে আরএস রেকর্ড অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করা হলে জেলা প্রশাসক কাগজপত্র পর্যালোচনা করে প্রত্যেকের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী আরএস পর্চা অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দেন। সে অনুযায়ী পর্চাগুলো অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আদালতের রায় ও প্রশাসনের অনুমোদনসহ বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিবাদী পক্ষ তাঁদের জমি থেকে বেদখল করার চেষ্টা করছে। জমিতে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হচ্ছে।
গত ১৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে নালিশি সম্পত্তিতে বিবাদী পক্ষ দখল করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগীরা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী কাজী মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “আমরা আদালতের রায় পেয়েছি। এসিল্যান্ড ও ডিসি স্যার আমাদের রেকর্ড বৈধ করে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। তারপরও স্থানীয় পেশিশক্তির কারণে আমাদের জমিতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না। তাঁরা এখনো বেদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে আবুল গাজী বলেন, “ওরা সব মিথ্যাবাদী। এই জমি আমরা প্রায় ৮০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। সেই জমিতে ওরা কী কী কাগজ করেছে, তা নিয়ে এখন দাবি তুলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে সিভিল মামলা চলছে। এর মধ্যে মহসিন ও চঞ্চল জমি পরিষ্কার করতে গেলে মারামারি হয়। এতে আমার ছেলের মাথা ফেটে যায় এবং বুকে আঘাত লাগে। এ বিষয়ে দারোগার কাছে তথ্য, মোবাইলে ছবি ও হাসপাতালের রিপোর্ট রয়েছে। আমি মামলা করেছি। তদন্তে আমাদের ভোগদখলের বিষয়টিও সঠিক পাওয়া গেছে। ওরা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। এটাই ঘটনার মূল বিষয়।”
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন বলেন, “দুই পক্ষের মারামারির সত্যতা পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষই থানায় জিডি করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”