মো. নাজির হোসেন
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে আজ শনিবার দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের লক্ষ্যে আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, দেশাত্মবোধক গানের আসর, প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্র ও কর্মসূচির তালিকায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর সকালে জেলার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হবে।
সকাল ১০ টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২ টার দিকে একই স্থানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বাদ জোহর জেলার সব মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে জেলার মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল ৩ টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আসর অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের বার্তা তুলে ধরা হবে।
বিকেল ৪ টার দিকে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা বনাম মিরকাদিম পৌরসভার মধ্যে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দিবসের আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করতে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া দিনব্যাপী জেলার জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্যবিষয়ক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।
দিবসটি উপলক্ষে মানবিক কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশুসদন, শিশু পরিবার, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শান্তি নিবাস ও বৃদ্ধাশ্রমসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।
শিশুদের বিনোদনের জন্য ৭ নভেম্বর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার সব শিশুপার্ক বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ৫ নভেম্বরের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ শিশু একাডেমিতে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিবসের অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিনব্যাপী এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির চেতনা জাগ্রত করার প্রত্যাশা করছে জেলা প্রশাসন।